মহাপুরুষ শ্রী শ্রী মাধবদেব

অসমীয়া জনজীবনে গুরু শ্রীমন্ত শংকরদেব ও তাঁর শিষ্য মাধবদেবের অবদান যথেষ্ট।
শ্রীমন্ত শংকরদেবের প্রিয় শিষ্য ছিলেন মাধবদেব। ইনার জন্ম হয়েছিল ১৪৮৯ সালে আসামের লক্ষীমপুর জেলার নারায়ণপুরে। পিতৃ ছিলেন গোবিন্দগিরি ভূঞাঁ এবং মাতৃ ছিলেন মনোরমা ।

মাধবদেব আগে শাক্তধর্মী লোক ছিলেন । মাতৃর অসুখের সময় দেবী মায়ের কাছে ছাগল বলি দেবেন বলে ইনি মানস করেছিলেন । সেই সময়ে জামাইবাবু মহাপুরুষ শংকরদেবের কাছে মাধবদেবকে শরণ নিতে পাঠিয়েছিলেন।তখন মাধবদেব নিজে যুক্তি তর্ক করেছিলেন শংকরদেবের কাছে কিন্তু শংকরদেবের বৈষ্ণব যুক্তিতর্কের সামনে মাধবদেব হেরে গিয়েছিলেন এবং বলি বিধান প্রথা ভগবান কখনোই চায়তে পারেন না বলে স্বীকার করেছিলেন এবং মহাপুরুষ শংকরদেবের শরণ নিয়েছিলেন। মহাপুরুষ দুজনার এই মিলনকে “মণিকাঞ্চন সংযোগ” বলে।

মাধবদেব “রাস ঝুমুরা”, “ভক্তি রত্নাবলী,” “নামঘোষা” নামে তিনটি ধর্মীয় গ্রন্থ রচনা করেছিলেন । অৰ্জুন ভঞ্জন
দধিমথন,জন্ম ৰহস্য,চোৰধৰা, পিম্পৰা গুচোৱা,ভোজন – বিহাৰ,ভূমি লেটোৱা নামে অনেক গুলো নাটকও রচনা করেছিলেন।
মাধৱদেব বারকুরি বরগীত রচনা করেছিলেন। যদিও বৰ্তমান সৰ্বমোট নকুরি টা রয়েছে। তাঁর মধ্যে একটি উল্লেখনীয় বরগীত হল – “তেজরে কমলাপতি”।
১৫৯৬ সালে মহাপুরুষ মাধবদেব ইহলীলা সম্বরণ করেন।

Facebook Comments