বাংলা তথা ভারতীয় নাটকের কিংবদন্তি শম্ভু মিত্র

ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্র জগতের উত্তম কুমারের মত সফল অভিনেতা থেকে শুরু করে প্রসেনজিৎ চেটার্জী পর্যন্ত অনেকেই রয়েছেন যাহাদের প্রতিভা বাংলা চলচ্চিত্র জগতকে সাফল্যর দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।
তেমন একজন সফল ও মহান অভিনেতা হলেন শম্ভু মিত্র।

১৯১৫ শালের ২২ই আগষ্টে কলকাতাই জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। বালিগঞ্জ গভর্মেন্ট স্কুল থেকে পড়া শুনো করে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন । ১৯৩৯ সালে তিনি বাণিজ্যিক নাট্যমঞ্চে যোগদান করেছিলেন। ইনি নাট্য নিকেতনের “কালিন্দী” নাটকের সূত্রে মহান নাট্যব্যক্তিত্ব শিশিরকুমার ভাদুড়ীর সংগে যোগসূত্র ঘটে এবং ইনার নেতৃত্বই পরবর্তীকালে ‘আলমগীর’ নাটকে অভিনয় করেন শম্ভু মিত্র। গুরুত্বপূর্ণ যে ১৯৪৩ সালে শম্ভু মিত্র ভারতীয় গণনাট্য সংঘে যোগ দিয়েছিলেন।১৯৪৮ সালে মনোরঞ্জন নাট্যগোষ্ঠী গঠন করে তার পরিচালনাই রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর, সফোক্লিস , তুলসী লাহিড়ীর মত অন্য মহান ব্যক্তিদের সুন্দর নাটক তার পরিচালনাই মঞ্চস্থ হয় যেগুলোকে ভারতের ইতিহাসে “মাইলফলক” হিসেবে জানা যায়।১৯৭০ সালে তিনি গঠন করেন বঙ্গীয় নাট্যমঞ্চ সমিতি এবং অজিত বন্দোপধ্যায়ের পরিচালনাই তিনি মঞ্চস্থ করেন “মুদ্রারাক্ষস” নাটকটি।

শম্ভু মিত্র ছিলেন মহান আবৃত্তিশিল্পী ও । ইনি জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রর সংগে ‘মধুবংশী’ নামের কবিতাটি আবৃত্তি করে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।রক্তকরবী, চার অধ্যায়,রাজা অয়দিপাউস , তাহার নামটি রঞ্জনা ,
ডাকঘর , চাঁদ বণিকের পালা,
অয়দিপাউসের গল্প কবিতাগুলো ইনার স্বকণ্ঠে রেকর্ড করা নাট্যপাঠ। এছাড়াও শম্ভু মিত্রর আরও অনেক কবিতা আবৃত্তি রেকর্ড করেছিলেন।

চলচ্চিত্র জগতে হিন্দি ছবি ধরতি কে লাল -এর সহকারী পরিচালক ছিলেন ইনি এবং অভিনয় করেছেন
মানিক, শুভবিবাহ ,পথিক ,
বউ-ঠাকুরাণীর হাট প্রভৃতি চলচ্চিত্রে। একদিন রাত্রে ও জাগতে রহো -র কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনার কাজ করেন শম্ভু মিত্র।
রাজ কাপুরের
জাগতে রহো ছবিটি গ্রাঁ পিঁ সম্মানে ভূষিত হয়েছিল।
ইনি প্রবন্ধকার ও ছিলেন। ইনার অবদান বাংলা জগতে এতটাই যেসব সামান্য শব্দে লেখা অসম্ভব।১৯৭৬ সালে নাটক ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য
ম্যাগসেসে পুরস্কার ও ভারত সরকারের “পদ্মভূষণ” সম্মান লাভ করেন । গণনাট্য সংঘে জড়িত থাকার সময়ে তৃপ্তি মিত্রর সাথে পরিচয় হয়ে বিবাহে আবদ্ধ হন তিনি এবং
সন্তান শাঁওলি মিত্রর জন্ম হয়। যাদবপুর ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ইনাকে ডি়.লিট উপাধিতেও সন্মানিত করেন।
শম্ভু মিত্রের মত মহান নাট্যকার ও চলচ্চিত্র অভিনেতা কলকাতাতে ১৯ই মে,১৯৯৭ সালে মৃত্যুকে আগলে নেন এবং মৃত্যুর সময় উইলে লিখে গেছিলেন তিনি সাধারণ মানুষের মতই পরলোকে গমন করতে চান।সেকারণে সৎকার সমাধা হওয়ার পূর্বে সংবাদমাধ্যমে শম্ভু মিত্রের মৃত্যুসংবাদ প্রচার করেনি কোনো সাংবাদিক।
এমন একজন বাংলা তথা সমগ্র ভারতের মহান শিল্পীর আজ জন্মতিথিতে জানাই অশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলী।